১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত ভিয়েতনামের জনগণের সাথে সংহতি প্রকাশের জন্য মিছিল বের করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। মিছিলটি তৎকালীন মার্কিন তথ্য কেন্দ্রের সামনে আসলে বিনা উস্কানিতে পুলিশ আকস্মিকভাবে গুলি চালায়। স্বাধীন দেশের মাটি শহীদের রক্তে রঞ্জিত হয়। পুলিশের গুলিতে নিহত হন ছাত্রনেতা মির্জা কাদেরুল ইসলাম ও মতিউল ইসলাম। আহত হন অসংখ্য ছাত্র ইউনিয়ন নেতাকর্মী।
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে পরদিন ফুঁসে ওঠে সারাদেশ। বিক্ষোভের নগরীতে পরিণত হয় রাজধানী ঢাকা। ওইদিন ঢাকার সর্বত্র স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল পালন করা হয়। তারই প্রেক্ষিতে ২০০২ সালে মির্জা কাদেরুল ইসলাম ও মতিউল ইসলামকে ভিয়েতনামের জাতীয় বীরের মর্যাদা দেয় সে দেশের সরকার। পাশাপাশি ভিয়েতনামের দু'টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নামকরণও করা হয় এ দুই বীরের নামে।
যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সংহতি জানাতে গিয়ে প্রাণ দিতে হলো মতিউল-কাদেরকে।
সেই সময় থেকে প্রতিবছর ১ জানুয়ারি পালিত হয় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি দিবস।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন