ইতিহাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইতিহাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস নয়, স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস পালন করুন



১৯৮২ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্ররা মিছিল বের করলে সামরিক স্বৈরাচারের পুলিশ বাহিনী নির্বিচারে ছাত্রদের লাঠিচার্জ করে। স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্রদের আন্দোলনের সূত্রপাত।

১৯৮৩ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্ররা মিছিল বের করলে সামরিক স্বৈরাচারের পুলিশ বাহিনী নির্বিচারে ছাত্রদের লাঠিচার্জ করে। স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্রদের আন্দোলনের সূত্রপাত।

১৯৮৩ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্ররা মিছিল বের করলে সামরিক স্বৈরাচারের পুলিশ বাহিনী নির্বিচারে ছাত্রদের লাঠিচার্জ, নির্যাতন ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে ১৪টি ছাত্র সংগঠন মিলে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে।

মজিদ খানের শিক্ষানীতি বাতিলের দাবীতে আন্দোলন এগিয়ে চলে।

১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচীর প্রচারে একটি পোষ্টার।

১৪ ফেব্রুয়ারির মিছিলে বাধা দিতে প্রস্তুত পুলিশ।

ছাত্রদের আন্দোলন শুধু শিক্ষানীতি নয় সামরিকতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে রূপ নেয়।

ছাত্রদের মিছিলে বাধা দিতে পুলিশের রাস্তায় ব্যারিকেড। ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩।

১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সচিবালয় অভিমূখে মিছিল এগিয়ে চলছে।

১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সচিবালয় অভিমূখে মিছিলের পূর্বে কলাভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সমাবেশ।

১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩। ব্যারিকেড ভেঙ্গে মিছিল এগিয়ে নেবার প্রস্তুতি।

১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩। ব্যারিকেড ভাঙছে ছাত্ররা।

১৯৮২ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুলিশের হামলা।

১৯৮২ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুলিশের হামলা ও লাঠিচার্জ।

১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩। ছাত্রদের মিছিলে পুলিশের গুলি।

১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩। মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত সতীর্থের লাশ ঘিরে আছে ছাত্ররা। সেদিন ও তার পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি মিলিয়ে ১০ জন নিহত হয়, গ্রেফতার হয় কয়েক হাজার।

১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩। এগিয়ে চলেছে ছাত্রদের মিছিল।

১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩। ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীরা যোগ দেয় মিছিলে।

১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩। ছাত্রদের মিছিলে পুলিশের গুলি ও হামলার প্রতিবাদে সারাদেশের ছাত্র জনতা প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে।

১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩। ছাত্রদের মিছিলে পুলিশের গুলি ও হামলার প্রতিবাদে সারাদেশের ছাত্র জনতা প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে।

সময়টা ১৯৮৩। ১৪ ফেব্র“য়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ডাকে ছাত্র জমায়েত। মজিদ খানের শিক্ষানীতি প্রত্যাহার, বন্দী মুক্তি ও জনগণের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে এই ছাত্র জমায়েত। সেটাই পরিণত হল বুট ও বুলেটের দমনে পিষ্ট জসতার এক বিরাট প্রতিরোধে। জাফর, জয়নাল, কাঞ্চন, দিপালীসহ সারাদেশে প্রাণ দিল ১০ জন। সেই থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি হয়ে ওঠে মুক্তিকামী মানুষের প্রতিরোধ চেতনার দিন। দিনটি পালিত হতো স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস হিসাবে।
একাত্তরে মানুষ অকাতরে রক্ত মুক্তির জন্য। বিনিময়ে পেল নতুন এক ফ্যাসিস্ট শাসন। শাসক শ্রেণীর দল-উপদলগুলোর মধ্যে প্রথম দিন হতে শুরু হয় ক্ষমতার জন্য কামড়াকামড়ি। বাকশালী শাসন, সামরিক গণতন্ত্র শেষে শাসক শ্রেনী জনগণকে উপহার দিল সামরিক স্বৈরাচার। দেশে এখন চলছে পার্লামেন্টারি স্বৈরাচারের দিন। আগুনে পুড়িয়ে ও নির্বিচারে গুলি করে শ্রমিক হত্যা, ক্রসফায়ারের নামে আইনি খুন, রূপগঞ্জ-আড়িয়াল বিলে ভুমি দখল, পাহাড়ে গনহত্যা, উপনিবেশিক শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন, ভারতের সাথে তাবেদারীর চুক্তি, কয়লা নীতি, মডেল পিএসসি-র মধ্য দিয়ে বিদেশীদের হাতে দেশের জাতীয় সম্পদ তেল-গ্যাস-কয়লা তুলে দেয়া দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, পাকিস্তান কালেও এ দেশে যা সম্ভব হয়নি সেই মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এমন নতুন নতুন আইটেম যুক্ত হয়ে শাসক শ্রেনীর স্বেচ্ছাচারিতা চরমে পৌঁছেছে।
দেশে যখন জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম দানা বাঁধতে শুরু করেছিল তখন পাকিস্তানি শাসক শ্রেণী জাতির চেতনাকে নড়বড়ে করে দেয়ার চেষ্টা করেছে। ভাষা-শিক্ষা-সংস্কৃতির উপর আগ্রাসন চালিয়ে। তারা বিজাতীয় ভাষা উর্দু চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। আমরা লক্ষ্য করলাম, তেমনি ভাবে পার্লামেন্টারি স্বৈরাচারের আমলে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস-এর চেতনাকে ধ্বংস করতে উদ্যত হল শাসক শ্রেণী।
সামরিক স্বৈরাচারের কয়েক বছর না যেতেই ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ভ্যালেন্টাইনস ডে হিসাবে পালনের জন্য শাসক শ্রেণীর অন্যতম মুখপত্র যায়যায় দিন প্রচার শুরু করে। পাকিস্তানিরা ’৫২তে ব্যর্থ হলেও, ক্যাবল আর স্যাটেলাইট চ্যানেলের কল্যাণে এবার শাসক শ্রেণী সফল হয়েছে। তারা ‘আমি আর তুমি’-র মত চরম স্বার্থপর, সমাজ বিচ্ছিন্ন চেতনা যুব সমাজের মধ্যে চাপিয়ে দিতে পেরেছে। প্রেম-ভালবাসার মত স্বাভাবিক সম্পর্ককে অতিপ্রাকৃত বিষয়ে পরিণত করে আফিম নেশার মত বুঁদ করে ফেলেছে। ভোগবাদ আজ তাদের আদর্শ।
শাসক শ্রেণী এ থেকে লাভ তুলে নিচ্ছে দু’ভাবে; সমাজের সবচেয়ে প্রাণবন্ত লড়াকু অংশ যুব সমাজকে মুক্তির লড়াই থেকে বিচ্ছিন্ন, নির্জীব করে ফেলে এবং দিনটিকে বাণিজ্যের মহোৎসবে পরিণত করে।
এদেশ, জাতি ও জনগণ মুক্তি পায় নাই কিন্তু তার মুক্তির আকাঙ্খা কখনো দমে নাই। তার লড়াই কখনো থামে নাই। 


(ছবিগুলো নেয়া হয়েছে গণআন্দোলনের এ্যালবাম থেকে এবং দিবস উপলক্ষ্যে প্রপদ এর লিফলেট এর অংশিক)


সোমবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১২

১ জানুয়ারী ২০১৩ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি দিবস



১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত ভিয়েতনামের জনগণের সাথে সংহতি প্রকাশের জন্য মিছিল বের করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। মিছিলটি তৎকালীন মার্কিন তথ্য কেন্দ্রের সামনে আসলে বিনা উস্কানিতে পুলিশ আকস্মিকভাবে গুলি চালায়। স্বাধীন দেশের মাটি শহীদের রক্তে রঞ্জিত হয়। পুলিশের গুলিতে নিহত হন ছাত্রনেতা মির্জা কাদেরুল ইসলাম ও মতিউল ইসলাম। আহত হন অসংখ্য ছাত্র ইউনিয়ন নেতাকর্মী।

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে পরদিন ফুঁসে ওঠে সারাদেশ। বিক্ষোভের নগরীতে পরিণত হয় রাজধানী ঢাকা। ওইদিন ঢাকার সর্বত্র স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল পালন করা হয়। তারই প্রেক্ষিতে ২০০২ সালে মির্জা কাদেরুল ইসলাম ও মতিউল ইসলামকে ভিয়েতনামের জাতীয় বীরের মর্যাদা দেয় সে দেশের সরকার। পাশাপাশি ভিয়েতনামের দু'টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নামকরণও করা হয় এ দুই বীরের নামে।
যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সংহতি জানাতে গিয়ে প্রাণ দিতে হলো মতিউল-কাদেরকে।

সেই সময় থেকে প্রতিবছর ১ জানুয়ারি পালিত হয় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি দিবস।

পহেলা জানুয়ারি সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংহতি দিবস অমর হোক


মতিউল ইসলাম, মির্জা কাদের। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের সাহসী অগ্রপথিক। ভিয়েতনামে মার্কিন সেনাদের বর্বরতার প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিঃশেষে প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। উৎসর্গ করেছেন অনাগত ভবিষ্যতের জন্য, যে ভবিষ্যৎ সাম্যের, মুক্তির। দূরপ্রাচ্যের ভিয়েতনামিরা যখন নাপাম বোমায় ক্ষতবিক্ষত, হাজার মাইল দূরে থেকেও সে ক্ষতের বেদনা বুকে ধারণ করে, প্রতিবাদে শামিল হওয়ার মন্ত্র বৃথা হতে দেননি এ দুই মহানায়ক। লাঞ্চনা, বঞ্চনা, অন্যায় আর শোষণ দলে মাথা উচু করে মৃত্যুই যে নবজীবনের গান রচনা করে তা তারা প্রমাণ করেছিলেন।

তাদের সে অমর আত্মত্যাগ এখনো পেরণা যোগাচ্ছে লড়াইয়ের। যদিও পেরিয়ে গেছে ৪০ বছর। সাম্রাজ্যবাদের হিংস্রতা আরো তীব্র তীক্ষ হয়ে উঠেছে। দেশে দেশে যুদ্ধ বাধিয়ে বাজার, প্রাকৃতিক সম্পদ লুটে নেওয়ার নগ্ন আস্ফালনে মত্ত তারা। সাম্রাজ্যের লাভের নিক্তিতে মানুষ আর প্রকৃতিকে প্রতিনিয়ত করে তুলছে বিপন্ন। এজন্য রক্তের হোলিখেলায়ও আপত্তি নেই সাম্রাজ্যবাদের। তাদের নির্দয় বেনিয়াগিরির অসভ্য লালসায় আজ ছিন্ন ভিন্ন আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, ফিলিস্তিনসহ তৃতীয় বিশ্বের শতকোটি মানুষ। সাম্রাজ্যবাদের উদ্যত রক্তচক্ষু এবার আফ্রিকা আর এশিয়ার দিকে। প্রাচ্যের শ্রম আর সম্পদ কেড়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ৬০ভাগ সেনা মোতায়েনের নির্লজ্জ ঘোষণা দিয়েছে এ হায়েনারা।  



 















সম্পদলোভী শকুনের হিংস্র দৃষ্টি থেকে একচুলও নিরাপদ নয় বাংলাদেশ। আমাদের দেশের বন্দর, তেল, গ্যাস, কয়লা আর প্রাকৃতিক সম্পদ দখলে মরিয়া তারা। সামরিক হুমকীর পাশাপাশি তাঁবেদার ক্ষমতা কাঠামো আর মুক্ত বাজার অর্থনীতির মারপ্যাঁচে একটু একটু করে গিলে নিতে চাইছে আমাদের স্বদেশ। আমাদের শিক্ষা, সংস্কৃতি, সার্বভৌমত্ব, মনোজগত সবই করায়ত্ব করতে চায় আজকের সাম্রাজ্যবাদ। তবে যেখানেই ধ্বংসের মচ্ছব চলুক না কেন, পরাজিত হয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে। ভিয়েতনামের লাখো জনতাকে হত্যা করেও মানুষের শক্তির কাছে পদানত হয়েছে তাদের আধুনিক সমরাস্ত্র। আমাদের মুক্তিযুদ্ধেরও তীব্র বিরোধিতা করেছিল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। কিন্তু বাংলার মুক্তিকামী মেহনতি জনগণ তাদের রক্তচক্ষু উপড়ে ফেলে স্বাধীনতার লাল সূর্যকে ঠিকই ছিনিয়ে এনেছে।

আশার কথা, সাম্রাজ্যবাদ তার পতনের ঘন্টাধ্বনি শুনতে পাচ্ছে। সাম্প্রতিক মন্দা নাড়িয়ে দিয়েছে পুঁজির কেন্দ্র ইউরোপ-আমেরিকার অর্থনীতির ভিত। সারাবিশ্বের সম্পদ শোষণ করে যে রাজপ্রাসাদ তৈরি করেছিল সাম্রাজ্যবাদ, সে প্রাসাদের প্রতিটি ইট আজ মানুষের অব্যাহত প্রতিবাদের মুখে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে। পুঁজিবাদের ব্যর্থতা অন্যায়, আর শোষণ নির্যাতনের বিরুদ্ধে দিকে দিকে প্রতিবাদের দামামা বাজছে। শ্রমিক, কৃষক, মেহনতি মানুষের দেয়ালে ঠেকা পিঠ ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। কিউবা, ভেনিজুয়েলা, ল্যাটিন আমেরিকার সংগ্রাম ছড়িয়ে পড়ছে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য হয়ে সমগ্র দুনিয়ায়। নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় ৯৯ শতাংশ মানুষ মুখোমুখি দাঁড়াচ্ছে সাম্রাজ্যবাদের। 'শ্রেণি সংগ্রামই মানব মুক্তির একমাত্র পথ' তা আবারো দিশারী হয়ে উঠছে। মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে সমাজতন্ত্রের পতনের বুলি। ভোগবাদের ঠুলি উপড়ে ফেলে দেশে দেশে তরুণ-যুবারা শ্রমিক শ্রেণির আন্দোলনে হচ্ছে একাত্ম। সেদিন আসলেই আর দূরে নয়, যেদিন পৃথিবীর প্রতি ইঞ্চি ভূমি থেকে উচ্ছেদ হবে সাম্রাজ্যবাদ, মানুষ মুক্তি পাবে এ ঘৃণ্য অপশক্তির হাত থেকে।

১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি, মতিউল কাদেরের স্লোগানে-মিছিলে শামিল ছিলেন তিতুমীর, সুভাষ, সূর্যসেন, প্রীতিলতা, সিধু-কানুরা। প্রতিবাদের আজকের লড়াইয়ে আমাদের চেতনায় মতিউল কাদেররা বারবার ফিরে আসুক।


প্রতিরোধ প্রতিশোধে নিশ্চিহ্ন হোক সাম্রাজ্যবাদ।
 

বুধবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১২

মুক্তিসংগ্রামে ছাত্র ইউনিয়ন



'মুক্তিসংগ্রামে ছাত্র ইউনিয়ন'
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদ কর্তৃক প্রকাশিত বই।
প্রকাশকাল: ২০১২

 বইটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

শুক্রবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২

১৭ সেপ্টেম্বর মহান শিক্ষা দিবসঃ প্রসঙ্গ ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন

শেখ রফিক

শরীফ কমিশনের শিক্ষা সংকোচন নীতি কাঠামোতে শিক্ষাকে তিন স্তরে ভাগ করা হয়- প্রাথমিক,মাধ্যমিক ও উচ্চতর। ৫ বছরে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও ৩ বছরে উচ্চতর ডিগ্রী কোর্স এবং ২ বছরের স্নাতকোত্তর কোর্সের ব্যবস্থা থাকবে বলে প্রস্তাব করা হয়। উচ্চশিক্ষা ধনিকশ্রেণীর জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এজন্য পাশ নম্বর ধরা হয় শতকরা ৫০, দ্বিতীয় বিভাগ শতকরা ৬০ এবং প্রথম বিভাগ শতকরা ৭০ নম্বর।স্বৈরশাসক আইয়ুব খান, ক্ষমতা দখলের মাত্র ২ মাস পর ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করে। এই কমিশন ১৯৫৯ সালে আগস্ট মাসের মধ্যে একটি শিক্ষা রিপোর্ট প্রণয়ন করে।২৭ অধ্যায়ে বিভক্ত এই রিপোর্টে প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চতর স্তর পর্যন্ত সাধারণ, পেশামূলক শিক্ষা,শিক্ষক প্রসঙ্গ, শিক্ষার মাধ্যম, পাঠ্যপুস্তক, হরফ সমস্যা, প্রশাসন, অর্থ বরাদ্দ, শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিষয়ে বিস্তারিত সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। এতে আইয়ুব শাহীর ধর্মান্ধ, ধনবাদী, রক্ষণশীল,সাম্রাজ্যবাদী শিক্ষাসংকোচন নীতির পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছিল। আইয়ুব সরকার এই রিপোর্টের সুপারিশ গ্রহণ করে এবং তা ১৯৬২ সাল থেকে বাস্তবায়ন করতে শুরু করে।
এই কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্বশাসনের পরিবর্তে পূর্ণ সরকারী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ছাত্র-শিক্ষকদের কার্যকলাপের উপর তীক্ষ্ম নজর রাখার প্রস্তাব করে।শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রম করানোর জন্য ১৫ ঘন্টা কাজের বিধান রাখা হয়েছিল। রিপোর্টের শেষ পর্যায় বর্ণমালা সংস্কার করা এবং বাংলা ও উর্দুর স্থলে রোমান বর্ণমালা প্রয়োগ এবং প্রতিষ্ঠার জন্য কমিটি গঠনের প্রস্তাব করে এই কমিশন।
আইয়ুব খান সরকারের শরীফ কমিশন রিপোর্টে শিক্ষাকে পণ্য হিসেবে বণর্না করা হয়।“ শিক্ষা সম্পর্কে জনসাধারণের চিরাচরিত ধারণা অবশ্যই বদলাতে হবে। সস্তায় শিক্ষা লাভ করা যায় বলিয়া তাহাদের যে ভুল ধারণা রয়েছ, তা শীঘ্রই ত্যাগ করিতে হবে। যেমন দাম তেমন জিনিস – এই অর্থনৈতিক সত্যকে অন্যান্য ব্যাপারে যেমন শিক্ষার ব্যাপারেও তেমনি এড়ানো দুষ্কর”। এ রিপোর্টে সাম্প্রদায়িক চেতনা, জাতীয় স্বার্থ বিরোধী, পুজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষাই শিক্ষার লক্ষ্য তা রিপোর্টের অংশে স্পষ্ট করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন আইয়ুবের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৫৯ সালে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনকে নিয়ে একুশ উদযাপনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। ১৯৬০ ও ১৯৬১ সালে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকে। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী পালন করার মাধ্যমে সরকারের সাম্প্রদায়িক ও বাঙ্গালীবিরোধী মনোভাবকে অগ্রাহ্য করে।
১৯৬১ সালে কমিউনিস্ট পার্টি ও আওয়ামী লীগের বৈঠকের পর আন্দোলন বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ৩০ ডিসেম্বর এই বৈঠকে ছাত্র ইউনিয়ন সামরিক শাসনের পরিবর্তে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন জাতীয় অধিকার প্রতিষ্ঠা, আইয়ুব শিক্ষানীতি বাতিল,রাজবন্দীদের মুক্তি প্রভৃতি বিষয়ে আন্দোলন শুরু করার প্রস্তাব করে- যা ওই মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত আকারে গৃহীত হয়। আরো সিদ্ধান্ত হয় যে ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে স্বৈরতন্ত্র বিরোধী জঙ্গি আন্দোলন।
১৯৬২ সালের ৩০ জানুয়ারি সোহরাওয়াদী গ্রেফতার হলে ৩১ জানুয়ারি ৪ টি ছাত্র সংগঠন মধুর ক্যান্টিনে যৌথভাবে বসে। ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগ ছাড়া বাকি দুটি সংগঠন ( ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ফেডারেশন ও ছাত্র শক্তি) ছিল সরকারের সমর্থক। এদের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারবিরোধী আন্দোলনকে ভুল পথে পরিচালিত করা। অবশ্য ছাত্র ইউনিয়ন এ বিষয়ে সতর্ক ছিল।
১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়।
২ ফেব্রুয়ারি ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বে রাজপথে জঙ্গি মিছিল সামরিক আইন ভঙ্গ করে।
৪-৫ ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে।
৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার ছাত্র প্রতিবাদ সমবেশে উপস্থি হয়।
৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে ছাত্র ইউনিয়নের সুসজ্জিত একটি মিছিল নাজিমুদ্দিন রোড দিয়ে পুরান ঢাকায় প্রবেশ করে। এই মিছিলকে প্রতিহত করার জন্য সরকার পুলিশের সাথে সেনাবাহিনী নিয়োগ করে এবং কার্জন হলের মোড়ে ফিল্ড কামান বসানো হয়। ওই দিন আইয়ুব খানের ছবি পোড়ানো হয়।
৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পর ছাত্ররা হল ত্যাগ করেছেন না দেখে পুলিশ ও সেনাবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয় ঘেরাও করে ছাত্রদের জোর করে বের করে দেয়। প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে পুলিবেষ্টনির মাঝে আটকা পরেছিল আন্দোলনের নেতা কর্মীরা। এদের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা আগেই জারি হয়েছিল।যা বহুদিন পর্যন্ত বহাল ছিল। এভাবে সারা দেশে আইয়ুব বিরোধী, শিক্ষানীতি বিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। মার্চে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর কেন্দ্রীয়ভাবে আন্দোলন চাঙ্গা হতে থাকে। কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্ব যথাযথ ভূমিকা পালন না করায় কয়েক মাস ছাত্র আন্দোলন কিছুটা মন্থর থাকে।
অবশেষে দেশের নয়জন ১৯৬২ সালের ২৫ জুন এক বিবৃতিতে আইয়ুব ঘোষিত শাসনব্যবস্থা প্রত্যাখান করে নতুন শাসনতন্ত্র প্রণয়নের দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ সারাদেশে জনসভা করেন। যাতে জনমনে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়। ৬২’র দ্বিতীয়ার্ধে সরকার ঘোষিত শিক্ষানীতির প্রতিবাদে আন্দোলন আবার বেগবান হয়ে ওঠে।
প্রতিক্রিয়াশীল শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল স্কুল, ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউটসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্ব-স্ব দাবির ভিত্তিতে জুলাই-আগস্ট মাস জুড়ে আন্দোলন চলতে থাকে। আন্দোলনের দাবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়েছিল শিক্ষানীতিতে প্রস্তাবিত তিন বছরের ডিগ্রি কোর্স এবং উচ্চ মাধ্যমিক ইংরেজির অতিরিক্ত বোঝা বাতিল করার বিষয়টি। এই দাবির সমর্থনে দেশের প্রায় অধিকাংশ স্কুল-কলেজের ছাত্ররা স্বত:স্ফূর্তভাবে ক্লাস বর্জন করতে থাকে।এ সকল আন্দোলন কর্মসূচিকে সংগঠিতভাবে রূপ দেয়ার জন্য ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগ পাকিস্তান স্টুডেন্ট ফোরাম নামে সাধারণ ছাত্রদের একটি মোর্চা গঠন করে। কাজী ফারুক(ছাত্র ইউনিয়ন) ও ওয়ারেশ ইমাম (ছাত্রলীগ) এই মোর্চার যুগ্ম আহ্বায়ক হন। কাজী ফারুক তখন ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
প্রকৃতপক্ষে ছাত্র ইউনিয়নই ছিল আন্দোলনের মূল পরিচালক। স্টুডেন্ট ফোরাম আইয়ুব শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে পুরো আগস্ট মাস জুড়ে জঙ্গি আন্দোলন গড়ে তুলার কাজ চালাতে থাকে। শিক্ষা আন্দোলন প্রস্তুতির সময় ছাত্র ইউনিয়ন নেতারা সারা দেশব্যাপী একথা বোঝাতে সক্ষম হন যে, শিক্ষার অধিকার ও গণতন্ত্রের আন্দোলন একই সূত্রে গাঁথা।
প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর ১০ আগস্ট ঢাকা কলেজের ক্যান্টিনে বিভিন্ন কলেজ প্রতিনিধিদের নিয়ে একসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভা থেকে ১৫ আগস্ট দেশব্যাপী ছাত্র ধর্মঘট ও ১০ সেপ্টেম্বর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। অবিরামভাবে চলতে থাকে শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে মিছিল-সমাবেশ-বিক্ষোভ আইয়ুবের কুশপুত্তলিকা দাহসহ নানা কর্মসূচি। পরবর্তীতে আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য ১০ সেপ্টেম্বর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি বাতিল করে ১৭ সেপ্টেম্বর সারা দেশব্যাপী হরতাল কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়।এই সময় স্টুডেন্ট ফোরামের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে নিয়ে গঠিত ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আন্দোলন পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে।
১৭ সেপ্টেম্বর সারা দেশব্যাপী হরতাল পালিত হয়। ছাত্রদের সাথে সাধারণ মানুষও পিকেটিংয়ে অংশগ্রহণ করে। সকাল ১০ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার মানুষ সমাবেশে উপস্থিত হয়।সমাবেশ শেষে মিছিল বের হয়ে যায়। জগন্নাথ কলেজে গুলি হয়েছে এ গুজব শুনে মিছিল দ্রুত নবাবপুরের দিকে ধাবিত হয়। হাইকোর্টে পুলিশের সাথে সংঘাতে না গিয়ে মিছিল আব্দুল গনি রোড ধরে যেতে থাকে। পুলিশ তখন পিছন থেকে মিছিলে হামলা চালায়। লাঠি চার্য, কাঁদুনে গ্যাস ও গুলি চালায়। পুলিশের সাথে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষ বাঁধে ঢাকা কোর্টের সামনে। এখানেও পুলিশ ও ইপিয়ার গুলি চালায়। এতে প্রচুর আহত হয়, ৩ জন শহীদ হয়, এবং শত শত ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়। বাবুল,গোলাম মোস্তফা ও ওয়াজিউল্লাহ শহীদ হন। ওই দিন শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশে মিছিলের উপর পুলিশ হামলা চালায়। টঙ্গিতে ছাত্র-শ্রমিক মিছিলে পুলিশ গুলি চালিয়ে হত্যা করে সুন্দর আলী নামে এক শ্রমিককে। কিন্তু ওই দিন রক্তাক্ত ঘটনার পর রাজনৈতিক নেতারা একটি বিবৃতি দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছিলেন।
দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্যদিয়ে ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশ ও লাল সবুজের পতাকা। যে স্বপ্ন-সাধকে বুকে ধারণ করে মুক্তিযোদ্ধারা জীবন-পণ যুদ্ধ করেছিল, তা আজো বাস্তবায়ন হয়নি। ৩৮ বছর পরেও আমরা শোষিত-বঞ্চিত-নিপিড়িত-নির্যাতিত। ক্ষুধা-দারিদ্র-বেকারত্বের অবসান হয়নি। পাকিস্তান আমলে এ-বঙ্গে বড়লোকের সংখ্যা ছিল বাইশ পরিবার। বর্তমানে বাংলাদেশে এ-সংখ্যা দাড়িয়েছে প্রায় পঞ্চাশ হাজারেরও বেশী। একই সময়ে উত্তরবঙ্গে না খেয়ে মানুষ মারা যাছে।
এদেশে এখন পর্যন্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়নি। সেই ব্রিটিশ-পাকিস্তান আমলের কেরানী তৈরী করার শিক্ষাব্যবস্থা বহাল রয়েছে। যে শিক্ষাব্যবস্থা মানুষকে ভোগবাদী-সুবিধাবাদী হিসেবে তৈরি করে। যার প্রমাণ হলো বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে পর পর পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ানশিপের গৌরব অর্জন করে দেখিয়েছে।
শিক্ষা এখন আলু-পটলের মত পণ্য। বিদ্যা ও বিদ্ব্যান টাকায় বিক্রি হয়। শিক্ষা তার, টাকা আছে যার। টাকা নেই, শিক্ষা পাওয়া যাবে না। বর্তমান সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ১১ টি ধারায় বিভক্ত। এই বহু ধারার পরিবর্তে একটা সুষম সার্বজনীন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। হলে তো ভালো-ই। এ জাতি ও ছাত্রসমাজ একটা শিক্ষানীতি পাবে। তাহলে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ আপনার কাছে চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকবে। অন্যথায় অসাম্প্রদায়িক, বিজ্ঞানভিত্তিক, সার্বজনীন ও একই ধারার শিক্ষানীতি জন্য তুমূল আন্দোলন চলবে।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীকে ৬২’র শহীদের রক্ত শপথ নিয়ে অসাম্প্রদায়িক, বিজ্ঞানভিত্তিক, সার্বজনীন ও একই ধারার শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এর কোনো বিকল্প পথ নেই।

লেখক পরিচিতি : শেখ রফিক, ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক।