বন্ধু
এ অঙ্গনে তুমি এসেছো এক সংগ্রামের সিঁড়ি বেয়ে। তোমাকে সংগ্রামী অভিনন্দন। বিদ্যা, বাণিজ্য, গণটোকাটুকি আর গৎবাধা পরীক্ষা পদ্ধতির বিরুদ্ধে তোমাকে যুঝতে হয়েছে। যুঝতে হবে সামনের দিনেও। আমরা জানি নিয়ত সংগ্রামী তুমি। এখনো তুমি শ্রান্ত নও বিদ্যা-বয়স ভারাক্রান্ত বুদ্ধিজীবীদের মতো। তুমি লড়বে এ প্রত্যয় আছে বলেই, তোমার কাছে ইতিহাস অর্পিত আমাদের এ আহ্বান।
তুমি তো জানো, বৃষ্টিমুখর বর্ষার জলকে ছাপিয়ে এখনো ক্যাম্পাসে কান্নার শব্দ শোনা যায়। এখনো এখানে নিহত নিরাপরাধ প্রাণগুলো আমাদের বিবেকে তীব্র কষাঘাত হানছে, সভ্যতার সমস্ত ব্যকরণকে মুখ ভেংচিয়ে অস্ত্রবাজ বুনো মোষেরা তাড়া করে ফিরছে আজও। আর তাদের পেছন ফেউ হয়ে দৌড়াচ্ছে তার আশ্রয়দাতা দলবাজ পিশাচরা। সবাই জানে, এদের কোনো দেশ নেই, দল নেই, মা নেই, বাপ নেই। এরা গোত্রহীন নরপশু।
তুমি এসেছো একুশ শতকের সুদূর নিহীরিকায় চোখ রেখে। তুমি ছুটতে চাও বিস্তীর্ণ তথ্যমহাসড়কে ঘোড়সওয়ার হয়ে। অথচ তুমি কি জানো রূপকথার কাজল রেখার রাজকুমারের মতো তোমার চোখে সুচ ফোটাবার আয়োজন চলছে? যাতে তোমার ¯^‡cœi নিউক্লিয়াস নষ্ট হয়, তোমার বিবেকটা বিদ্যামহাজন-দের সিন্দুকে বন্ধক দেয়া হয়ে যায়! তুমি কি জানো অদম্য লোভ-লালসা আর শ্রেণীবৈষম্যের প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা সব পারে। শুধু বিদ্যা নয়, মায়ের ভালোবাসাকে ওরা কেজি হিসেবে দোকানে বেচলে অবাক হবে না। তুমি কি শোননি শামসুননাহার হলে মধ্যরাতে পুলিশি বুটে পিষ্ট তোমার বোনদের চাপা কান্না? তুমি কি জানোনা কি বিভৎস আক্রোশে তোমার ভাইদের ওপর ঝাপিয়ে পড়েছিলো জলপাই রংমহল?
তুমি কি দেখোনি পশ্চিমী তথাকথিত সভ্য দুনিয়ার শাসকরা মধ্যপ্রাচ্যে কেমন (গণতন্ত্র!) শেখালো? রেজিম চেঞ্জ, প্রি-এমটিভ এটাক, ইউনিল্যাটারালাইজম তত্ত্ব দিয়ে হাজার হাজার নিরপরাধ শিশুর-নারীর রক্ত পান করেও ওদের তৃষ্ণা মেটেনি। ওদের তস্য দালালরা কখনো ছাত্রনেতা, কখনো শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, আমলা, জননেতা কিংবা এনজিও কর্তা হয়ে ছাড়পোকার মতো তোমার আমার সামনেই চষে বেড়াচ্ছে।
এসব রক্তচোষা ছাড়পোকারা প্রতিদিন তোমার আমার সামনে এক একটি সামাজিক-মানবিক ক্ষত তৈরি করছে। হল দখল, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে এসিড নিক্ষেপ, ছিনতাই, অপহরণ, মাদক ব্যবসা, খুন, ধর্ষণ সবই তাদের তেলেসমাতি। মজার বিষয় হলো, এরাই আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বড় বড় সিম্পোজিয়াম-সেমিনার করে তোমাকে আমাকে সবক্ দিচ্ছে। তুমি কি চাও না আমরা সকলে মিলে এসব ছাড়পোকাদের ঘিরে ধরি। উপড়ে ফেলি তাদের বিষাক্ত শেকড়।
অশান্ত এ সময়ে দরকার অসংখ্য বেপরোয়া কিছু বিচ্ছু তরুণ-তরুণী। যারা বিদ্যমান সবকিছুর সামনে একটা বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁকে দেবে। ডাইনিং-এর পচা খাবার, হলের জীর্ণ দশা, মাস্তান-দখলদারদের মিছিলে নিয়ে যাওয়ার চোখ রাঙ্গানি, শিক্ষা ও শিক্ষাদানের আকাশ ছোঁয়া অসঙ্গতি, লাইব্রেরিতে বইয়ের অভাব, জড়াগ্রস্ত নোটের জেরক্স কপি, সামপ্রদায়িকতার বিষবাস্প, উন্নয়নের কথা বলে দেশের সার্বভৌমত্বকে-দেশের জাতীয় সম্পদকে বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়ার চক্রান্ত, নতজানু পররাষ্ট্রনীতি সবকিছুকে যারা mg¯^‡i না বলবে। সত্যিই এখন দরকার সেসব না বলতে পারা বিচ্ছুদের। যারা ভয় পায় না কোনো কিছুতেই।
আমরা এখনো ¯^cœ দেখি, একটা সুন্দর ক্যাম্পাসের-মুক্ত মানুষের মুক্ত সমাজের। আমরা ভালোবাসি মানুষকে। সুন্দরকে। সুন্দর আগামীর জন্য নানামুখী সকল সংগ্রামকে। আমরা ¯^cœ দেখি, আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাস সত্যিকার মানুষের নির্মল কোলাহলে মুখরিত।
¯^cœ দেখি, শিক্ষার সকল ধরনের সঙ্কট থেকে মুক্ত একটি সার্বজনীন গণমুখী বৈজ্ঞানিক শিক্ষা ব্যবস্থার। ¯^cœ দেখি দু- বেলা দুমুঠো খাবারের অভাব থাকবে না কোথাও। বোধকরি, তোমার আমার ¯^cœ মাঝে বড় কোনো তফাৎ নেই।
আমরা চাই, তোমার সুন্দর ¯^cœ¸‡jvi সাথী হতে। চাই তোমাকে বন্ধু হিসেবে পেতে। আরো চাই, পশ্চিমের ড্রাকুলাদের তৈরি ভোগবাদের ফেনিল প্রপাগাণ্ডায় তুমি ভেসে যাবে না। বিবেকহীন, বোধহীন ¯^v_©ci ক্যারিয়ারইজম তোমাকে গ্রাস করবে না। তোমাকে গ্রাস করবে না চটকদার অথচ অমানবিক আহবান। তোমাকে গ্রাস করবে না সংকীর্ণ অসচেতন সামপ্রদায়িকতা।
তোমাকে তোমার ¯^‡cœi ক্যাম্পাসে ¯^vMZg| এই শিক্ষালয় তোমাকে অসংখ্য ইতিহাসের মুখোমুখি দাঁড় করাবে। তোমাকে এনে দেবে ৫২, ৬২, ৬৬, ৬৯, ৭১, ৯০, ৯২, ২০০২ কিংবা ২০০৭। তোমাকে শেখাবে শুধুই বইয়ের ফাঁকে চোখ কান বুজে থাকা নয় দেশ-মাটি-মানুষের সংগ্রামে নিজেকে সর্বস্ব দিয়ে উৎসর্গ করা।
যদি তুমি এ প্রত্যাশাগুলো পূরণ করো আমরা নিশ্চিত আমাদের পবিত্র ক্যাম্পাস, আমাদের শিক্ষা, আমাদের রংবেরঙের ঘাসফড়িংগুলো আর এ সবুজ পৃথিবীকে বাঁচানোর প্রতিটি সংগ্রামে তোমার বন্ধুত্বকে আমরা সাথে পাবোই।
তোমাদের আবারও শুভেচ্ছা, অভিনন্দন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন